ডুয়েট থেকে আলবেনিয়ার ডিজিওয়েবের জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী শুভ
হাবিবুর রহমান, ডুয়েট প্রতিনিধি
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরের ২০১৯-২০ সেশনের সিএসই বিভাগের মেধাবী ছাত্র মেহেদী হাসান শুভ আলবেনিয়ার ডিজিওয়েবের জ্যষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেছেন। মেহেদী হাসানের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে। তিনি বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ সেশনের কম্পিউটার টেকনোলজির একজন ছাত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডুয়েট থেকে তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন।
মেহেদী হাসান নিজের এই সফলতার পিছনের গল্প বলতে গিয়ে বলেন- “ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার কিছুদিন পরেই করোনা পরিস্থিতি চলে আসে তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই যে কোন একটি কাজ শিখব, সেই চিন্তা থেকে আমি BASIS Institute of Technology & Management (BITM) থেকে Flutter এর একটা কোর্স সম্পন্ন করি। তারপর আমি একটা ইসলামিক অ্যাপস ( Search Islam) তৈরি করলাম এবং সেটা গুগল প্লে স্টোরে আপলোড দিলাম। পরবর্তীতে আমার একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে ইন্টার্নশীপ হিসেবে চাকরি হয়। পাশাপাশি তখন আমি এক বছর কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং করেছি। এরপর আরো অনেকগুলো কোম্পানিতে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে এবং পাশাপাশি দুইটা সরকারি প্রজেক্টেও কাজ করা হয়েছে। আর সর্বশেষ যে কোম্পানিতে আমি কাজ করতেছি তা হল "DigiWeb" এখানে মূলত আমি রিমোট জব করি। তারা জব অফার করে LinkedIn পোস্ট করেছিল সেখান থেকে আমি এপ্লাই করেছিলাম। তারপর ওরা আমাকে একটা Small Task দিয়েছিল। ঐ Task টা আমি খুব সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করি যা ওদের কাছে খুব ভালো লাগে। পরবর্তীতে ওরা আমাকে কনফার্ম করে যে, ওরা আমার সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক। তারপরে ওরা আমাকে একটা প্রজেক্ট দিলো স্ট্যাডি করার জন্য, আমি যখন দেখলাম ওদের ওই প্রজেক্টের যেসব কোডগুলো রয়েছে সেগুলো কোন স্ট্রাকচার ফলো করে করা হয়নি, তখন আমি তাদেরকে একটা প্রপোজাল দেয়, আমি তাদের এই কাজটা কে সুন্দর করে স্ট্রাকচারওয়াইজ করে দেব। সেই মোতাবেক আমি কাজ শুরু করি এবং তারা আমার এই কাজটাকেও খুব সুন্দর ভাবেই পছন্দ করে এবং আমাকে সিনিয়ার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। প্রায় ৮ মাস যাবৎ এই কোম্পানিতে আমি রয়েছি।
পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি থাকা অবস্থায় যেহেতু আমার ইন্ডাস্ট্রিয়াল একটি এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে সে ক্ষেত্রে আমি চেষ্টা করেছি আমার কাজগুলোর সাথে ইন্ডাস্ট্রি আর রিসার্চ এটাকে কম্বাইন করে কাজ করার জন্য। সেই সুবাদে আমার ক্যাম্পাসে অনেক স্যারদের সাথে খুব সুন্দর সম্পর্ক হয়ে ওঠে এবং তাদের থেকেও অনেক কাজ শিখতে পেরেছি। যার ফলাফল হিসেবে আমার মোট ছয়টি পেপার বিভিন্ন জার্নালে পাবলিশ হয়েছে তার মধ্যে Q1 এর রয়েছে দুইটি। আমার গবেষণার ক্ষেত্রগুলো হল Explainable Artificial Intelligence, Federated Learning, Computer Vision, Machine Learning, Deep Learning, Image Processing,Artificial Intelligence, Edge Computing”।”
এছাড়াও মেহেদী হাসান ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির এক্সিকিউটিভ কমিটির ২০২৩-২৪ সেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়ীত্বরত ছিলেন।
ডিজিটেক/ক্যাম্পাস প্রতিনিধি/ডুয়েট







